সামিয়া আকন্দ মিতুর চুপকথার গল্প .

profile Ansarul Mullah , 2020 March 03

 . যা বলছি তাই কর। বেশি কথা আমার একদম পছন্দ না। যার সাথে বিয়ে দেবো তাকেই করতে হবে। তোর এত স্বাধ আহ্লাদ পূরন করার সময় নেই আমার। এই বলে চলে গেলেন মিসেস রাহেলা বানু। তিনি চলে যাওয়ার পর মাটিতে ধপ করে বসে পরে মিতু। সামিয়া আকন্দ মিতু। বাবার দেওয়া আদরের নাম। বাবা আজ নেই। আকাশের তারা হয়ে গেছে। তাহির মাঝে মাঝে মনে হয় বাবার কাছে চলে যেতে। বাবা কেন যে তাকে ফেলে গেলো। মায়ের অকাট্য কথাগুলো আর ভাল লাগে না । ভেবে পায় না, এ কি নিজের মা নাকি সৎ মা। বাবা তো কিছুই বলে যায় নি। চুপচাপ এসব মেনে নেওয়া ছাড়া আর উপায় নেই। ড্রেসিং টেবিল এর সামনে বসে ভাবছে মিতুর খুব কি প্রয়োজন ছিল বিয়ের। সেতো নিজের খরচ নিজেই চালিয়ে নেয়। তাতে কি খুব সমস্যা ছিল তার মায়ের। ছেলের সম্পর্কে কিছুই জানে না। এইচএসসি এক্সাম টাও দিতে পারলো না, তার আগেই বিয়ে করে ফেলতে হচ্ছে। সেজেগুজে বসে আছে তাহি। সাজগোছ এর জন্য ছেলের বাড়ি থেকে সব ই দিয়েছে। ছেলেকে দেখে নি তাহি। একদিন এসে ছেলের মা দেখে গিয়েছে। আর এখন ডিরেক্ট বিয়ে। মাকে কত করে বুঝাতে চেয়েছে মিতু, যে সে এখন বিয়ে করতে চায় না। আরো পড়তে চায়। নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। কিন্তু সে সুযোগ তাকে আর দেওয়া যাবে না। মায়ের আদেশ মানতেই হবে। ছোট একটা ভাই আছে। মাত্র জেএসসি দিবে। বাবা যা রেখে গেছে তা দিয়ে খুব সুন্দর ভাবেই বাচতে পারবে তারা। ডাক পড়তেই নড়েচড়ে বসে মিতু। চোখের কোনে চলে আসা বিন্দু নোনাজল ধারা কে টিস্যুর ভাজের কোন দিয়ে মুছে নিলো। — তোর তৈরি হওয়া শেষ হয়েছে — জ্বি আম্মু — মুখ টা কে এমন ভুতুম প্যাঁচার মতো করে রাখিস না তো। আমার ই দেখে মেজাজ চটে যাচ্ছে তো ছেলে পক্ষের লোকেরা দেখলে কি বলবে। যেইনা মুখের ছিরি মুখ যেন হাসি হাসি থাকে এই বলে দিলাম। উঠো এবার। . . মিতুকে ঘোমটা বড় করে টেনে দিয়ে নিচে নেমে আসলো। ওদের বাড়িটা দোতালা বিশিষ্ট। কিন্তু অল্প জায়গার মধ্যে। নিজেরা থাকবে বলে নিজের সুবিধা মতো ই গড়ে তুলেছে। নিচ তলায় রান্না ঘর। ডাইনিং টা রান্নাঘর এই। ড্রয়িংরুম এ বসার জন্য খুব পরিপাটি করেই সাজানো। এমন সাজানো টা অবশ্য মিতুর ই বলেছিল। খুবি নিরিবিলি তে বিয়ে সম্পন্ন হয়ে গেলো। ছেলের পরিবার থেকে চার – পাঁচজন হবে হয়তো। বিয়ে পড়িয়ে খুব জোড় খাওয়া দাওয়া চলছে। মিতুকে রুমে বসিয়ে দিয়েছে কবুল বলার পরপর ই। . . মিতু রুমে বসে বসে ভাবছে। জীবনে কি এমন হওয়া খুবি প্রয়োজন ছিল। যে ছেলের সাথে তার বিয়ে হয়েছে তার নাম টা কবুল বলানোর সময় খুব মনোযোগ দিয়েই শুনেছে। নাম আদনান মাহির। নামের পেছনের টাইটেল টার খেয়াল নেই মিতুর। ছেলেটাকে দেখতে পারলো না এটাই মনে খচখচ করে যাচ্ছে। এত বড় ঘোমটা দিলে দেখবে কিভাবে। আচ্ছা ছেলে কি মেনে নিয়েছে। এসব ভাবতে ভাবতে মিতুর মাথা ধরে গেছে। আচ্ছা আজকেই কি ওকে ছেলে বাড়ি আজকেই নিয়ে চলে যাবে। ভাবতে না ভাবতেই মিসেস রাহেলা বানু রুমের দরজা ঠেলে ভেতরে ঢোকেন। — মিতু রেডি হয়ে নে ওরা আজি তোকে নিয়ে যাবে বলছে । ওরা ব্রিটকেস এ যা দিয়েছে সব নিয়ে নে। আমার তো আর মেয়ে নেই যে রেখে দিয়ে ওগুলো তাকে দেবো। নিয়েই যাহহহ….. . . খুব জোড়ে জোড়ে কান্না করতে ইচ্ছে করছে মিতুর। মিতুর তো এমন চায়নি। ভাগ্য তাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। রাহেলা চলে গেলে ফুঁপিয়ে কান্না করে উঠে মিতু। পিছন থেকে এসে জড়িয়ে ধরে আদরের ছোট ভাই হিমেল। মিতু আর হিমেল। খুব মনের মিল এদের মধ্যে। হিমেল মায়ের সামনে তেমন কিছু বলতে পারে না। শুধু বোনকে দেওয়া মায়ের কষ্টগুলো চুপ করে দেখে যায়। ফুঁপিয়ে কান্না করে উঠে তাহির ঘারে মুখ গুঁজে। — কিরে বাবু সোনা আমার কাঁদিস কেনো। আমি কি মরে গেছি নাকি। — আপুনি — আরে বোকা ছেলে কাঁদিস না। জানিস ই তো তুই কান্না করলে আমার কলিজা মনে হয়ে দু টুকরো হয়ে যায়। কাঁদিস বাবু সোনা প্লিজ — তুমিও তো কাঁদছ — আরে না রে বোকা। — একদম মিথ্যে বলবে না। আমি কি এখনো ছোট নাকি যে ভোজবাজি করে থামিয়ে রাখবে। যথেষ্ট বুঝদার আমি আপুনি । — হিমেল শোন……. — (হিমেল কিছুটা বিষ্ময় ভরা চোখে তাকায়। আপুনি তো বাবু সোনা নাম ছাড়া ডাকেনি কখনওই। তবে কি আজ ছেড়ে যাবে বলে….) বলো আপুনি — শোন আমি তো থাকবো না তাই তোকে সব বেলা খাইয়েও দিতে পারবো না। নিজে একটু কষ্ট করে খেয়ে নিস। আম্মুকে কিন্তু একদম ই বিরক্ত করবি না। সব কথা শুনবি। হিমেলের এসব শুনে আরো গলা চিড়ে কান্না বেড়িয়ে আসতে চাইছে । হিমেল আর সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারলো না। তাহির পেছন থেকে সামনে এসে গলা শক্ত করে ধরে কান্না শুরু করে দিয়েছে। — তুমি আম্মুর কথায় কেন রাজি হলে আপুনি। তুমি আমাকে ছেড়ে যেও না আপুনি । আম্মু আমার কোন খেয়াল ই রাখেনা। সবসময় তুমিই আমার খেয়াল রেখেছ। কখন কি দরকার বলার আগেই হাজির করে দিয়েছ। তুমি আম্মুর থেকেও বেশি আপুনি। তুমি যেও না আপুনি। — আরে পাগল ছেলে আমার তো এখন বিয়ে হয়ে গিয়েছে। বিয়ে হয়ে গেলে মেয়েরা অন্যের সংসার গোছানোর দায়িত্ব ঘাড়ে চেপে যায়। শক্ত হাতে দায়িত্ব পালন করা খুবি কষ্ট জানি। দেখি দেখি….. এই বলে গলা থেকে হিমেল কে সড়িয়ে চোখ মুছে দিলো। নিজের টা আগেই মুছে নিয়েছে। সে চায় না তার ছোট আদুরে ভাইটা এই চোখের পানি দেখে আরো কষ্ট পাক। বোকা কি তোকে সাধেই বলি। এই দেখ, মেয়েদের মতো কান্না করছিস। এমন কিন্তু ছেলেদের মানায় না। শোন তোর যখন ই মন চাইবে তখন ই আমার কাছে চলে আসবি। ঠিক আছে তো…… — হুম — এবার একটু হাসতো দেখি। কোনোরকম এক গাল টেনে হাসলো হিমেল। মিতুকে ব্যাগ গুছিয়ে নিতে সাহায্য করলো। খাওয়াটাও হলো না মিতুর। মা টাও জানি কেমন কিছু খেতেও নিয়ে আসলো না। থাক শেষ মুহুর্তে এসব আর ভাবতে চাইছে না মিতু। হিমেল তাহির ব্যাগ টা এগিয়ে দিচ্ছে। নিজেরাই গাড়ি নিয়ে এসেছে শ্বশুর বাড়ি থেকে। গেটের সামনে এসে বাড়ির ভেতর আবার উকি দিয়ে দেওয়ালে টানানো বাবার ছবিটার দিকে এক ঝলক তাকিয়ে নিলো মিতু। বাবা থাকলে হয়তো দিনটাই অন্যরকম হতো। চোখ ফিরিয়ে নিয়ে গাড়িতে উঠতে নেয় মিতু। তখন ই পেছন থেকে ডাক দেয় রাহেলা বানু। তাহি ফিরে তাকায়। তিনি এসে তাহির কপালে একটা চুমু খায়। — ভালো থাকবি। ভুল বুঝিস না আমায়। ভালো করে সংসার করিস। — হুম অতি সংক্ষেপ এ উত্তর দিয়ে গাড়িতে উঠে পরে। তারেকবার ফিরে তাকায় ভাই টার দিকে। মেয়েদের মতো এখনো কেঁদে ভাসিয়ে দিচ্ছে। পাগল একটা। . . গাড়ি চলছে আপন গতিতে। বর টা পাশেই বসেছে। কিন্তু তাকাতে ইচ্ছা করছে না মিতুর। মনে হচ্ছে ছেলের ও এই বিয়ে নিয়ে কোনো মাথা ব্যথা ছিল না। ক্ষুধার্ত পেটে নিথর হচ্ছে তাহির দেহ টা। চোখ লেগে গেছে। কে জানে কি আছে তার এই নতুন বিয়ে নামক সংসার এ। . . . To be continue…….. ভুলত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। কেমন হলো অবশ্যই জানাবেন please ¡

0 Comments , 63 Views